RSS ফিড

সবুজ তাপস’র বাঁচনভঙ্গি’: দার্শনিকতাপূর্ণ কবিতানুক্রম/তানভীর মাসুদ

(গদ্যটি গদ্যকার তানভীর মাসুদ-এর। দৈনিক পূর্বকোণ-এর সাহিত্য ও সংস্কৃতি পাতায় ১৪ জানুয়ারি ২০১১-এ প্রকাশিত।)

সবুজ তাপস চলমান শতাব্দি শুরু থেকে সক্রিয় এমন একজন কবি, যার কবিতা দার্শনিকতাপূর্ণ। বচনে-বাচনে, বিষয় নির্বাচনে সমসময়ের অন্যান্য কবির চেয়ে পৃথক কবিসত্তা। তার সমসময়ের উল্লেখযোগ্য বিকাশমান আর যে দু’জন কবি, তারা হলেন- চন্দন চৌধুরী ও ফুয়াদ হাসান। দু’জনের একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত থাকলেও সবুজ তাপসের নেই। চন্দন চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- ‘লহো মোর শব্দের অঞ্জলি’, ‘ক্যাম্পাসে চাই না প্রেম বিপ্লব জরুরি’, ‘যাবে হে মাঝি দিকশূন্যপুর’ ও ‘লালকাঁকড়ার নদী’ এবং ফুয়াদ হাসানের কাব্যগ্রন্থগুলো- মানুষ মানুষ নয় হোমোসেপিয়ানস’ ও ‘রাফখাতার কাটাকুটি’। সবুজ তাপস লিখতে এসেই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করে কবি হতে যান নি। এ-জায়গায় তিনি উল্লেখিত দু’কবির চেয়ে পৃথক। তিনি বিশ্বাস করেন সম্ভবত, লাইন অব থিংকিং তৈরি হবার আগে বা পাকামি আসার আগে গ্রন্থ প্রকাশ করে এখানে-ওখানে বিলি করে যে-কারো ‘কবি’ খেতাব পেতে চাওয়া উচিত নয়। তিনিই একমাত্র তরুণ, কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ না করে সমকালে অন্যান্যের চেয়ে বেশি আলোচিত এবং সমালোচিত।

সবুজ তাপসকে বর্তমানে দেখছি কবিতা বিষয়ে পরীা-নিরীা চালাচ্ছেন, দার্শনিকতাপূর্ণ গদ্য লিখে যাচ্ছেন। কয়েকটা ছোটকাগজে (যেমন- ঢেউ, শঙ্খবাস) তার দেয়া কবিতার দৃষ্টান্তবাদী ব্যাখ্যা পাচ্ছি। তার একটা বক্তব্য খুবই ভালোলাগার: কবিতার অবস্থান পাঠকের অভ্যন্তরে। আমরা যে পঙক্তিগুলো পড়ি, সেগুলো কবিতা নয়, কবিতার দেহমাত্র, পাঠকের মন থেকে কবিতা বের আনার সম বাক্যবাণ। এই গদ্যে আমি তার দৈনিক পূর্বকোণের সাহিত্য সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘বাঁচনভঙ্গি’ শিরোনামের দুটি কবিতার ওপর আলোচনা করবো। বলে রাখা যাক, এ-শিরোনামের ১১টি কবিতা দৈনিক পূর্বকোণের ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ এবং ১টি দৈনিক সমকালের ‘কালের খেয়া’য় পেলাম। পূর্বকোণে প্রকাশিত কবিতাগুলোর বেশির ভাগই গুচ্ছাকারে ছিল। বাকি কবিতাগুলোও আলোচনা করার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু এগুলো বোধ করা আমার পে সম্ভব হয়নি বা এগুলো আমার ভেতর থেকে ভাষা আদায় করতে পারে নি। হতে পারে, এটা আমার ব্যর্থতা।

শুরুতে ‘বাঁচনভঙ্গি’ শব্দটা নিয়ে বলা যাক। শব্দটা উচ্চারণগত দিক থেকে ‘বাচনভঙ্গি’-এর খুব কাছাকাছি। দ্বিতীয় শব্দটির ব্যবহার খুব পেয়েছি, কিন্তু প্রথমটির নয়। এটি সবুজ তাপসের নির্মিত। ‘বাচনভঙ্গি’-এর অর্থ যদি ‘বলার ভঙ্গি বা ঢঙ’, ‘কথনের স্টাইল’ হয়, তবে ‘বাঁচনভঙ্গি’-এর অর্থ ‘ বেঁচে থাকা বা বেঁচে ওঠার ভঙ্গি বা ঢঙ’ বলা যাচ্ছে। নতুন অর্থবহ শব্দ তৈরি করা কবির এখতেয়ারে পড়ে। এ-‘বাঁচনভঙ্গি’ শিরোনামের বিভিন্ন কবিতায় আমরা এ-রকম কিছু নতুন শব্দের সন্ধান পেলাম, যেগুলো সবুজ তাপসের বানানো; যেমন, মধ্যান্ন, বনসাঁই, সারসঙ, অস্থিত্ব, অন্তর্মিল প্রভৃতি। তিনি এক গদ্যে দাবিও করেছেন, ‘যিনি কবি, একজন স্রষ্টা, যুক্তিধর্মরাকারী শব্দনির্মাণকাজ তার সৃষ্টিশীল চরিত্রের পরিচায়ক, কবিতার জন্যে অভিধানের শব্দধানগুলোকে তিনি সবসময় যথেষ্ট মনে করেন না’ (দৃষ্টান্তবাদী দৃষ্টিতে কবিতার সৌন্দর্যোপভোগ যাত্রা / শঙ্খবাস, সংখ্যা ২, ২০১০)।

বক্তব্যানুসারে শুরুতে ‘‘বাঁচনভঙ্গি/১’ সামনে আনা যাক। এটি দৈনিক পূর্বকোণের ১১ জুলাই ২০০৮-এর ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ পাতায় প্রকাশিত। এ-কবিতায় দুটো চরিত্র ল করি। প্রথম চরিত্রে রয়েছেন কবি নিজেই। বোলবোলার (নদ নাকি নদী নাকি খাল) পাশ থেকে কর্ণফুলি নদীর কিনারে এসেছেন। দ্বিতীয় চরিত্র ‘সে’ বলে চিহ্নিত, ব্রহ্মপুত্র নদের আশপাশ থেকে একই স্থানে এসেছেন। কবি কবিতা লিখে চলেছেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্তান-মুছলমান সবার সাথে চলাফেরা করছেন, জাত-পাত থোড়াই কেয়ার করে সবার বাসায় গিয়ে আহারও সারছেন। এবং প্রাত্যহিক কাজ সেরে আবার যথারীতি মার্কেটের যাত্রীছাউনিতে এসেও বসছেন। ‘সে’ বলে চিহ্নিত দ্বিতীয় চরিত্রের ক্রিয়াকর্ম এখান থেকেই শুরু। বর্তমান সমাজের বেশির ভাগ মানুষ তাকে ‘পতিতা’ বলতে পারেন। সবুজ তাপস তাকে ‘পতিতা’ বলেন নি। কেন বলেন নি? ‘পতিতা’ শব্দটাকে বাজিয়ে দেখলে বিপত্তি হাজির হচ্ছে। ধাতু-মূল উল্লেখ না করে বলতে পারি, শব্দটি ‘পতিত’ থেকে এসেছে। অভিধানের ভাষায়, ‘পতিত’ মানে ‘পড়ে গেছে এমন’, চ্যুত, ভ্রষ্ট ইত্যাদি। এ-অভিধান অনাবাদি বা অকর্ষিত জমিনকে ‘পতিত জমি’ বলছে। কেহ যদি অনাঘ্রাত নারীকে অকর্ষিত জমিনের সাথে তুলনা করে ‘পতিত নারী’ বলে বসেন, তখন কি ঘটবে? এই পতিত নারীকে সংপ্তিাকারে ‘পতিতা’ বলা যেতে পারে। আর এটা বলা গেলে ‘পতিতা’ শব্দের সামাজিক ধ্যান-ধারণায় প্যাঁচ লাগে। অর্থাৎ ‘পতিতা’ শব্দটা সমাজমনোবৈজ্ঞানিক। এটাকে ইতি-নেতি- দুদিক থেকেই দেখা যায়। এখানেই খুঁজে পাচ্ছি সবুজ তাপসের দার্শনিক সচেতনতা এবং কবিত্বশক্তি; তিনি জামেলায় না গিয়ে দ্বিতীয় চরিত্রকে ‘সে’ বলে মানবিক প্রশ্নে আবর্তিত থেকেছেন। তিনি যে দ্বিতীয় চরিত্রের বেলায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, কবিতাটির শেষের দিকের ‘আমরা’ শব্দটি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। যা হোক, এই ‘সে’ ভালোভাবে দিন কাটানোর জন্যে রাতে খুঁজে চলেছে আলো। কবির ভাষায়:

মার্কেটের যাত্রীছাউনিতে রাতে খুঁজে চলেছে সে

দিনের দীপন,

একাজে সে সীমাবদ্ধ নয়, হিন্দু সঙ্গী পেলে যেমন তার সাথে চলে যাচ্ছে, তেমনি আবার মুছলমান সঙ্গী পেলেও। কবির মতো সেও জাত-পাত থোড়াই কেয়ার করছে। কবির ভাষায়-

জলের জীবন, বাছবিচারহীন

এবাসায় যাচ্ছে-ওবাসায় যাচ্ছে; সকল খাটের মাঠে

ভিজে নিজে ফিরে আসছে আপন পাড়ায়

শেষ স্তবকে এসে কবি বলছেন, –

ও বোলবোলা ও ব্রপুত্র, ভালো থেকো।

আমরা ভালো আছি এ-শহরে, সাঁতরাচ্ছি সফরি মাছের মতো

অন্যগত, দিনে রাতে প্রতিঘাটে

ফেলে যাচ্ছি নজরনোঙর, অসাম্প্রদায়িক।

কবি তার ফেলে আসা বোলবোলা ও ‘সে’-এর ফেলে আসা ব্রহ্মপুত্র নদকে বলছেন ভালো থাকতে। এবং পাশাপাশি এ-আধুনিক যন্ত্রণাদায়ক শহরে মাছের মতো নির্ভরশীল হয়ে বিচরণ করে তারাও যে ‘ভালো’ আছেন, তাও জানিয়ে দিচ্ছেন। এ-ভালোথাকা কোন্ কিসিমের? ব্রিটিশবাহিত আধুনিকতা এখানে যতটুকু সদর্থকতা দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি দিয়েছে নৈঞর্থকতা। নগরজীবনে মোটাদাগে ঢেলে দিয়েছে কান্তি, হতাশা, বিমর্ষের মতোন বিষয়গুলো। এ-আধুনিকতা এখানকার মানুষকে বানিয়েছে পণ্য এবং চাকর। এ যে ব্যাপার, এটা যেন বর্তমান বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবি ও ‘সে’-এর ভালোথাকা অসাম্প্রদায়িকতা চর্চা করার দিক থেকে। কবি যেমন সেও জাত-পাত বিবেচনা না-করে সবার সাথে চলছেন, সবার মনোরঞ্জন করছেন।

‘বাঁচনভঙ্গি/৯’ নিয়ে আলোচনা করা যাক। কবিতাটি দৈনিক পূর্বকোণের ১৩ ফেব্র“য়ারি ২০০৯-এর ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ পাতায় পেলাম। কবিতাটির শুরুটা আকর্ষণীয় এবং ভাব্য:

‘জগতের সব প্রাণী সুখী হোক

মশা ছাড়া;

দাঁড়াও, ট্রুথব্রাশ করে না সব প্রাণীও

এই কথাও জানিও’

এখানে রয়েছে তিনটি চরিত্রের উল্লেখ। প্রথম চরিত্রে রয়েছেন কবি নিজেই। দ্বিতীয় চরিত্রে রয়েছে ‘মশা’ এবং তৃতীয় চরিত্রে ‘ঝাঁকের কৈ’। কবি মশা ছাড়া জগতের সকল প্রাণীর সুখ চেয়েছেন। মশার সুখ চান নি কেন, সহজে বোধগম্য নয়। এবং এর পাশাপাশি ঋষির মতোন ‘ট্রুথব্রাশ করে না সব প্রাণীও’ কেন উল্লেখ করেছেন, তার ব্যাপারেও একই বক্তব্য। কবিতাটি সম্ভবত সময়াবেগ ধারণ করা, ২০০৯-এর আগে রচিত। চবিসাস (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ)-এর এক সাহিত্য আড্ডায় জানতে পারি, সবুজ তাপস তিন মাস আগে লিখিত কবিতা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের জন্য দিয়ে থাকেন। এ-কবিতাকে তার সময়াবেগ বলে চিহ্নিত করলাম ‘দিনকাল নিয়ে ভাবছি’ পঙ্ক্তিখণ্ডের উপর ভিত্তি করে। এই যদি হয়, তবে ‘মশা’ রক্তপিপাসু কিংবা যারা যুক্তিপ্রয়োগ নয় রক্তপাত করার মাধ্যমে ধারণকৃত আদর্শের রাজাসন চায় তাদের প্রতীক রূপে ব্যবহৃত। মানুষকে যুক্তিবাদী হতে হয়। যুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানুষ নিজেকে এবং নিজের সাথে সম্পর্কিত জগতকে রা করবে- এটা শুধু আধুনিক নয়, এ-অত্যাধুনিক যুগেরও চাওয়া। অর্থাৎ যুক্তিবাদিতা মানবিকতাসাপে। অর্থাৎ মানুষের যুক্তিপ্রয়োগ মানবহত্যার পে হতে পারে না। এ-কথার সাজুয্য রয়েছে যেন ‘ট্রুথব্রাশ করে না সব প্রাণীও’-এর মধ্যে। হ্যাঁ, মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণীর ট্রুথব্রাশ লাগে না। যা হোক, কবি এ-মশাদের গুপ্ত কথা প্রকাশ করছেন, কোনোভাবে ঘৃণা না করে। হয়তো তার ধারণা, ঘৃণা করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কোনোকিছুই শুভকর নয়। ঘৃণা একধরণের করুণা বা দয়াও। অভিধানও তাই বলছে। কবি তাদের ‘ডালের আড়াল’ প্রকাশ করছেন, যেহেতু তিনি তাদের ভালোবাসছেন এবং সুন্দর পৃথিবীর বাসিন্দা করতে চান। কবির ভাষায়-

এইসব বলে দৈনিক দিনকাল নিয়ে ভাবছি,

প্রকাশ করছি তাদের ডালের আড়াল; এইসব বলে তাদের ভালোবাসছি,

কাছাকাছি থাকছি শ্রীসম্পাদক

কবি ভালোবেসে যাদের গোপন দুরভিসন্ধি প্রকাশ করে যাচ্ছেন, যাদের শ্রীসম্পাদিত করার কাজে ব্রতী হয়েছেন, তাদের প্রতিক্রিয়া কী জঘণ্য। তারা কবিকে পাহাড়ি জীবন ধারণ করার নির্দেশ দিচ্ছে, নতুবা তাকে মৃত্যুদণ্ড গ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে। তাদের প্রতিক্রিয়া কবির ভাষায়-

এখানে থেকে

আকাশের আর্ট-মাঠঘাট-নিরবধি নদী

যদি দেখতে চাও

হয়ে যাও ঝাঁকের কৈ, না হয় ঐ

নদী; পারঘাটার ঘাটা পার হয়ে

চলে যাও দূর—পার্বতীপুর

না হয় ঐ…

এখানে তৃতীয় চরিত্র ‘ঝাঁকের কৈ’ উল্লেখিত। ‘ঝাঁকের কৈ’ বলতে কবি সম্ভবত তাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যারা তার সতীর্থ কিন্তু ঐ-মশাদের সমর্থক অথবা ঐ-মশাদের মানবতাবিরোধী কর্মযজ্ঞের বিরোধী নন। কেননা, তারাই দেশের দিনকাল নিয়ে আলাপ করার সময় কবিকে প্রতিবন্ধী বলছেন। মশাদের চেয়ে এ-‘ঝাঁকের কৈ’রা বেশি ভয়ঙ্কর। তারা সবসময় কবির আশে-পাশে থাকছেন এবং কবির সাথে আলাপমগ্নও থাকছেন। কবি এ-কবিতায় হয়তো ২০০৯-এর আগে ধর্মের নামে গড়ে-ওঠা জঙ্গিসংগঠনগুলোকে মশা এবং এগুলোর কাছ থেকে প্রত্য ও পরোভাবে স্বার্থসন্ধানকারী বুদ্ধিজীবী শ্রেণিকে ‘ঝাঁকের কৈ’ বলে উল্লেখ করেছেন। কবি যখন টের পেলেন, তার আশপাশেও জঙ্গিদের মানসদোসর, তখনই হয়তো বলতে বাধ্য হয়েছেন, বাঁচার স্বার্থে-

শহরমেয়রের কাছে যাবো,

আমি যুধিষ্ঠির ধর্মপুত্র;

প্রয়োজন প্রতিবন্ধী পরিচয়সূত্র!

এই বলে কী কবি মশা ও ঝাঁকের কৈদের সাথে আপোষ করেছেন? কিছুতেই না। বরং তিনি সুস্থ মানুষের পরিচয় দিয়ে নয়, অসুস্থ মানুষের (প্রতিবন্ধী) পরিচয় দিয়ে তাদের সবার ‘ডালের আড়াল’ প্রকাশ করার সুযোগ খুঁজছেন। এ-কথার ইঙ্গিত ‘যুধিষ্ঠির ধর্মপুত্র’ শব্দবন্ধের মধ্যেই রয়েছে। বাংলা বাগধারার ‘ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির’ আর সবুজ তাপসের ‘যুধিষ্ঠির ধর্মপুত্র’ এক কথা নয়। দুটোর অর্থ ভিন্ন। ‘ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির’ মানে ‘অত্যন্ত ধার্মিক’। কিন্তু সবুজ তাপস ‘যুধিষ্ঠির ধর্মপুত্র’ বলতে ‘যুদ্ধের সময়ে বুদ্ধি স্থির রাখতে পারেন এমন’ ধরণের ধর্মপুত্রকে নির্দেশ করেছেন। অর্থাৎ তার ‘যুধিষ্ঠির’ মহাভারতোক্ত ধর্মপুত্র বা পঞ্চপাণ্ডবের জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব নয়, একজন সুযোগসন্ধানী বুদ্ধিমান যোদ্ধা।

উপরোক্ত আলোচনায় দেখতে পাচ্ছি, সবুজ তাপসের কবিতা দর্শনঘনিষ্ট। এটা বাংলাদেশ দর্শন, ভারতীয় দর্শন, পাশ্চাত্য দর্শন, ধর্মদর্শন, রাষ্ট্রদর্শন, সমাজদর্শন, সমকালিন দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ইত্যাদি তার পাঠের আওতায় রয়েছে বলে, বোধ হয়। প্রথম কবিতায় তার সমাজমনস্কতা এবং দ্বিতীয় কবিতায় দেশ তথা রাজনীতি সচেতনতা প্রকাশ পেয়েছে। অবশ্য এটা আমার ধারণা। এ-দু’কবিতায় অন্য কোনো বোধের চাষও থাকতে পারে। দোষ বলি আর গুণ বলি, কবিরা এমনও: বলেন একটা বোঝান আরেকটা। তার কবিতা অনুভব করে বুঝতে পারলাম, কেবল যুক্তি নয়, আবার কেবল আবেগও নয়; কবিতা যৌক্তিক আবেগের বিষয়। ব্যাপারটা তার শব্দচয়ন ও শব্দনির্মাণ প্রবণতার দিকে তাকালে বোধগম্য হয়। তার কবিতা বৈচিত্র্যপূর্ণ, এবং আধুনিক ও উত্তর আধুনিক কাব্যদর্শনের প্রভাবেই স্বতন্ত্র মেজাজ লাভ করেছে, আমি মনে করি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: